উধাও
লেখকঃ আসিফ নজরুল
ধরণ: সমকালীন উপন্যাস
প্রকাশকাল: জানুয়ারি ২০১৯ (১ম প্রকাশ), মার্চ ২০১৯ (৩য় মুদ্রণ)
প্রকাশক: প্রথমা প্রকাশন
রকমারি.কম রেটিং: ৪.০/৫.০
রিভিউ লেখকের রেটিং: ৩.৭৫/৫.০
প্রথমেই গল্পের ভাষা নিয়ে বলি, সমকালীন লেখকেরা যেভাবে চলিত আর আঞ্চলিক রীতির সংমিশ্রণে সৃষ্ট নতুন প্রজন্মের পাঠক উপযোগী রীতির ব্যবহার করে থাকেন, আসিফ নজরুলও তার বিরোধীতা করার চেষ্টা করেননি। গল্পের চরিত্রগুলোকে আরও জীবন্ত করে তোলার জন্য এরকম মিশ্রণ এবং দু-চারটা গালাগাল থাকা দোষের কিছু না। কিন্তু বর্তমান সময়ের আরেক বিশেষ প্রজাতির লেখক সম্প্রদায় প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে অশ্লীল শব্দের ব্যবহারকে সৃজনশীল রচনার মূলমন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে উঠেপড়ে লেগেছেন, এবং তাদের এক শ্রেণীর পাঠকগোষ্ঠীও তৈরি হয়েছে। এসব রচনা ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে বিব্রতকর মনে হয়। ”উধাও” সেদিক থেকে যথেষ্ট মার্জিত ভাষায় রচিত, ”শালা” জাতীয় দুই একটা গালি ছাড়া আর তেমন কোনো অশ্লীল শব্দের ব্যবহার হয়নি। ১৮+ কন্টেন্ট থাকা সত্ত্বেও সুযোগের অপব্যবহার না করে আসিফ নজরুল সাহেব যথেষ্ট কৌশলী শব্দচয়নের মাধ্যমে মার্জিত ভাষার ব্যবহার বজায় রেখেছেন যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। আর এযুগের লেখা বলেই যারা অশ্লীল শব্দ আর ১৮+ কন্টেন্টের রগরগে বর্ণনার মজা নিতে বইটিতে হামলে পড়বেন, আগেই বলে দিচ্ছি তাদেরকে হতাশ হতে হবে, এ গল্পে যৌন উত্তেজক কিছু নেই।
তবে গল্পের কিছু কিছু অংশে অপ্রাসঙ্গিক ঘটনার দীর্ঘ বর্ণনা পাঠককে বিরক্ত করে তুলতে পারে, আবার নাও পারে। বাচাল গোছের মানুষ কথা বলতে বলতে খেই হারিয়ে অন্য বিষয়ে ঢুকে পড়লে যেমনটা হয়, ঠিক সেরকমই কিছু ব্যাপার এই উপন্যাসে পাঠকের চোখ এড়াবে না বোধকরি।
কাহিনীর প্রবাহও মার্জিত ধরণের গতিশীল। তবে পূর্বে উল্লিখিত অপ্রাসঙ্গিকতার দীর্ঘায়নে পাঠকের সামান্য ধৈর্যচ্যুতি ঘটতে পারে, তবে তা উপেক্ষা করা গেলে আর সমস্যা হবার কথা নয়। হাস্যরস রয়েছে পর্যাপ্ত, কিছু কিছু জায়গায় সে রস জমতে জমতেও জমেনি, কিছু অংশে যথেষ্ট জমেছে। গল্পের মূল চরিত্র বাদল, যাকে লেখক মধ্যবিত্ত শহুরে পরিবারের সাদামাটা বেকার যুবকদের প্রতিনিধিরূপে তুলে ধরতে চেয়েছেন, তাতে অনেকাংশে সফলও হয়েছেন। তবে নায়িকা বকুলের সক্রিয় উপস্থিতির অভাব আমি সর্বদা অনুভব করেছি। পুরো কাহিনীতে বাদল আর বকুলের মুখোমুখি কথোপকথন মাত্র একবার, তাও দুই-এক বাক্যে, কাহিনীর প্রকৃতি বিবেচনায় এটা আমার কাছে কম মনে হয়েছে। তবে অন্যান্য দিক থেকে পাঠককে একটি শহুরে পরিবেশের স্বাদ দিতে লেখক যেসব ছোট ছোট প্রভাবকের ব্যবহারে দক্ষতা দেখিয়েছেন তা এককথায় চমৎকার।
কাহিনীতে গুম, দোকানে আগুন, বিক্ষোভ, ক্ষমতার অপব্যবহার- এসব সমসাময়িক বিষয়ের অবতারণা আমার কাছে লেখকের রাজনৈতিক চেতনার গভীর থেকে প্রকাশিত কোনো ইঙ্গিত বলে মনে হয়েছে।
সবমিলিয়ে একজন সাধারণ পাঠক হিসেবে আমি উপন্যাসটির বর্ণনাভঙ্গি উপভোগ করেছি , কিন্তু কাহিনী কিছুটা অসম্পূর্ণ এবং অগভীর মনে হয়েছে।
কৃতিত্বঃ সৈয়দ আসির হা-মীম বৃন্ত
